‘বট’ দিয়ে বিশ্ব-জয়ের স্বপ্ন দেখছে রিভ

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ২২:২১  
যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো ২০০৩ সালে। শুরুটা করেছিলেন ছয় জনে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি গ্যারেজে। এরই মধ্যে কর্মী ছাড়িয়েছে ছয় শতাধিক। ছড়িয়ে গেছে পৃথিবীর নানান দেশে। দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে নিবন্ধিত হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, লেবানন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে। ইআরপি সল্যুশন দিয়ে দেশের সফটওয়্যার খাতে দখল করে নিজেদের শক্ত অবস্থান। এরপর এন্টিভাইরাস দিয়ে ভার্চুয়াল আকাশের হুমকী মোকাবেলায় নজর দেয়। তবে তার আগেই মোবাইল ভিওআইপি সার্ভিস নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বাজিমাৎ করে। কিছু দিন আগে তাদেরই তৈরি‘রিভচ্যাট’-এ মজেছে উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো। খিলগাঁ-বনশ্রী ও বাড্ডা হয়ে এবার এই কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তার বট দিয়ে বিশ্ব-জয়ের সব প্রস্তুতি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে রাজধানীর পূর্বাচল থেকে। অবশ্য এরই মধ্যে তারা পৌঁছে দেছে বিশ্বের ৩০টি দেশে। পশ্চিমের পাশাপাশি দক্ষিণ গোলার্ধেও উঁকি দিয়েছে দেশের অন্যতম বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমস। বুধবার মধ্য দুপুরে প্রযুক্তি খাতের সংবাদ কর্মীদের সামনে এমন স্বপ্নের কথাই প্রকাশ করলেন রিভ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মাদ রেজাউল হাসান। ছয়তলা ভবনের চূড়ায় ভিডিও প্রেজেন্টেশনে তুলে ধরা হয় এই রিভের ২২ বছরের অবিশ্রান্ত পথ চলার সংগ্রামের কথা। তবে তাতে মোটেও ক্লান্ত দেখা যায়নি রেজাউল হাসানের চোখ। গভীর দৃষ্টি ছিলো চকচকে। বলছিলেন, বাংলাদেশের এই ব্র্যান্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া বিষয়ে তার প্রত্যয়ের কথা। এসময় এই স্বপ্ন বুননের গভীরে নিয়ে গেলেন রিভ সিস্টেমসের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার রায়হান হোসেন। উপস্থাপনায় তিনি জানালেন, রিভ চ্যাট আক্ষরিক অর্থেই কেবল একটি বট নয়। এটি সত্যিকার অর্থেই সহযোগী বট। কেননা, এরই মধ্যে বটটি আমরা বট এমনভাবে তৈরি করছি যা যেকোনো ভাষায় ব্যবহার করা যায়। কোনো ইনপুট দিলে সেটা সে সংগে সংগে শেখে। এর বাল্ক লার্নিং একটা ফিচার আছে, একসাথে অনেক ডেটা সে বাল্কে আয়ত্ত করে ফেলে; সেন্টিমেন্ট এনালাইসিস - ব্যবহারকারীর আবেগ বুঝতে পারে। প্রসঙ্গক্রমে ২০০৮-এর ৩রা এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, প্রকারান্তরে সেখানকার নীতিগত সুযোগ সুবিধার কথাই জানালেন রেজাউল হাসান। আইসিটি পণ্যকে চলতি বছরের বর্ষপণ্য ঘোষণার পর রিভ সিস্টেমস এর প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে বললেন, আমরাতো অনেক আগে থেকেই রপ্তানি করছি। বিশ্বের অনেক দেশই আমাদের ওপর আস্থা রাখছে। এভাবেই তো কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। যারা স্বপ্রণোদিত এই কাজটি করছে প্রতিষ্ঠার পরও তাদের শক্তি বাড়াতে সরকার আরো ভালো ভালো উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। জানালেন, এই বর্ষ সফল করতে তাদের প্রচেষ্টার কমতি থাকবে না। কেননা, তাদের লক্ষ্য বিশ্ব জয়। কী দিয়ে? উত্তরে বললেন,অবশ্যই প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্ভাবনী সল্যুশন দিয়ে।